বিশেষ প্রতিনিধি: একটু পেছনের দিকে তাকাতেই আমারা দেখতে পাই সোনালিমুখর সেইসব দিনগুলো। সেই সোনালিমুখর দিনে সোনালি আভায় উদ্ভাসিত হয়ে আলোর দ্যুতি ছড়িয়ে দর্শক মাঝে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন আনোয়ারা নামে একটি মিষ্টি মেয়ে। শুরুটা নায়িকা চরিত্রের মধ্যে থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। বলচ্চিত্রের এই সুভিনেত্রী নিজের ইচ্ছা আর ভালোবাসার তাগিতেই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এবং এখনও করছেন। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনোয়ারা। ১৯৪৮ সালে কুমিল্লা জেলার হরিরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১০-১২ বছর বয়স থেকেই মঞ্চ নাটক, নাচের প্রতি খুব ঝোঁক ছিল। সেই আগ্রহকে ভালোবেসে সেই সময়ে পাশের এলাকায় মঞ্চনাটকের দলের সঙ্গে জড়িয়ে যান। শিল্পচর্চার শুরু পঞ্চাশ দশকের শেষ ভাগে। এরপর ষাট দশকের প্রথম দিকেই অভিনয় শুরু করেন ‘আজান’ ছবির মধ্য দিয়ে। এরপর নায়িকা চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন ‘বালা’ ছবি। একে একে তিনি বশির আহমেদের ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, সুভাষ দত্তের ‘কাগজের নৌকা’, কাজী জহিরের ‘ভাইয়া’সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেন। খান আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজউদদৌলা’ ছবিতে আলেয়া চরিত্রে অভিনয় করে সব মহলে প্রশংসিত হন এবং জীবনের সব চাওয়া-পাওয়াই তিনি ‘আলেয়া’ চরিত্রের মধ্যে খুঁজে পান। তার পরপরই নয়নমনি, গোলাপী এখন ট্রেনে, দেবদাস, জন্ম থেকে জ্বলছি, দুই পয়সার আলতা, সবুজ সাথী, হাসু আমার হাসু, রাধাকৃষ্ণ, নসীব, ভাত দে, সুধ আসল ও শুভদ’ার মেতা অসংখ্য বিখ্যাত ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। প্রায় চার যুগেরও বেশি সময় ধরে মেধা, ধৈর্য আর মনোবল নিয়ে তিনি চলচ্চিত্র অঙ্গনে দোর্দ- প্রতাপে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছন। বর্তমানে তিনি কাজী হায়াতের ‘বর্তমান’ ছবিতে অভিনয় করছেন। এছাড়া ‘তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা’, ‘সমাধি’ ছবিতে অভিনয় করা ছাড়াও আনোয়ারা টেলিভিশন নাটকেও একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক কন্যা সন্তানের গর্বিত মা। মেয়ে অভিনেত্রী মুক্তি। এভাকে কাজের মাঝে নিজেকে ব্যস্ত রেখে তিনি আগামী দিনগুলে কাটাতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন।