বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সব্যসাচী লেখক হিসেবে যার নাম আমাদের সাহিত্যাঙ্গনে এবং উভয় বঙ্গের সুপরিচিত তাঁর নাম সৈয়দ শামসুল হক। জন্ম ১৯১৫ সালে কুড়িগ্রামের জলেশ্বরী গ্রামে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকায়। বাবা ডাক্তারি করতেন এবং ডাক্তার হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। শামসুল হকের সাহিত্য জীবন কুড়িগ্রামের জলেশ্বরী গ্রামে শুরু হলেও সাহিত্যিক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন ঢাকাতে (তখনকার পূর্ব পাকিস্তান)। একাধারে তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্প লেখক, নাট্যকার, চিত্র পরিচালক ও চিত্রশিল্পী। সফল টিভি উপস্থাপক; কি-না তিনি? শিল্প সাহিত্যের অঙ্গনে তাঁর বিকল্প বোধকরি কেউ নেই। তাঁর অগণিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে নরনারী প্রেম ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো তিনি যেভাবে তার উপন্যাসে তুলে ধরেছেন তার রকমই আলাদা। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা পড়লে কেউ এ কথা বলবে না যে, শামসুল হক-এর মতো লেখে। শামসুল হকের লেখা শামসুল হকের মতোই। চমৎকার কথা বলেন,

কবিতার বই বৈশাখে রচিত পঙ্তিমালা, অন্তর্গত

নাটকÑ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
নূরল দীনের সারাজীবন
গণনায়ক
ঈর্ষা

উপন্যাসÑ বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ
অন্তর্গত
চোখ বাজি
নিষিদ্ধ লোবনে
খেলারাম খেলে যা

সৈয়দ শামসুল হকের একটি বৈশিষ্ট্য হলো তার অধিকাংশ বইয়ের প্রচ্ছদ তার নিজের আঁকা।

একজন প্রকৃত শিল্পীর যে সমস্ত গুণ থাকা দরকার সৈয়দ হকের তার পুরোটাই আছে। প্রসঙ্গত একসময় তিনি চিত্রালী ও বিবিসির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন; সে জন্য তাঁকে সাংবাদিকও বলা চলে। তাঁর সৃষ্টি ও কাজে উঠে এসেছে হাজার বছরের বাঙালির মাটি ও মানুষের কথা এবং বিদ্রোহের কথা। একই সাথে আদিবাসী ভূমিপুত্ররা ও তাঁর লেখার অন্যতম উপাদান।