নিজস্ব প্রতিনিধি: বহুল কাঙ্খিত প্রত্যাশিত দৃষ্টি নন্দন পদ্মা সেতুর ৩৬তম স্প্যান বসানোর জন্য বৃহস্পতি বার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জনান সেতু কর্তৃপক্ষ।কারিগরি জটিলতা কিংবা নাব্যতা সংকট না থাকলে শুক্রবার স্প্যানটি বসানো হবে। পিয়ার ২ ও ৩ নম্বরে ৩৬তম স্প্যান ( ১-বি) বসানোর লক্ষে বুধবার সকাল থেকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে নদীর নাব্যতা পরীক্ষা সহ আনুসঙ্গিক প্রস্তুতি কাজ করতে থাকে সেতু নির্মাতা কর্তৃপক্ষ।

সেতুর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেনে স্প্যান (১-বি) নিদৃষ্ট স্থাঁনে পৌঁছানোর জন্য উঠিয়ে বাধাঁ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নিদৃষ্ট পিলারের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়ে পিলার ২ ও ৩ নম্বরের কাছে পৌঁছে। এই স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ‌্যমান হবে পদ্মা সেতুর ৫.৪০০ কিলোমিটার।

গত মাসের ১১ তারিখ ৩২তম স্প্যান, ১৯ তারিখ ৩৩তম স্প্যান ২৫ তারিখ ৩৪তম স্প্যান ও ৩১ তারিখ শনিবার ৩৫তম স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) বসানো হয়েছে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের ওপর ৩১ অক্টোবর দুপুর ২.৪০ ঘটিকায় ৩৫ তম স্প্যান (স্প্যান ২-বি) বসাতে সক্ষম হন সেতু প্রকৌশলীরা।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান শুরু হয় পদ্মা সেতু।

মূল পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

৬ দশমিক ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। আর আগামী মাসের ১০ ডিসেম্বর ৪১ তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে স্প্যান বসানোর কাজ। আগামী বছরের জুন মাসে চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে দৃষ্টি নন্দন বহুল কাঙ্খিত পদ্মা সেতু।