স্টার্ফ রিপোর্টার: গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী সভা প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফর উল্যাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান প্রমুখ। সভায় পদাধিকারবলে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শেখ হাসিনা দলীয় সব নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, দেশের যেসব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজেদের পছন্দমতো লোক রেখে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কমিটি থেকে বাদ দেবেন সেসব জেলার কমিটি অনুমোদন দেয়া হবে না। তাঁদের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করে দেব। কমিটিতে যাঁরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন, তাঁদেরও মূল্যায়ন করতে হবে।

গতকালের সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক সদস্য জানান, সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আসন্ন জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচন নিয়েও কথা হয়। সভায় শেখ হাসিনা কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে যে প্রার্থীদের চূড়ান্ত করা হয়েছিল তাঁদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

বৈঠকে আট বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে একটি কেন্দ্রীয় দল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় শেখ হাসিনা বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের জানান ,আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নেতৃত্বে এসব দল গঠন করা হবে। এছাড়াআওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিগুলো শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানায়, বৈঠকে একজন প্রশ্ন করে বলেন, আট বিভাগের প্রতিটিতে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজন সাংগঠনিক সম্পাদক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করছেন। ফলে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়, সিনিয়র নেতাদের চেয়েও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা অনেক বেশি প্রাধান্য পান। এ জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়েই বিভাগগুলোতে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা উচিত। আর এর জবাবে সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য এ বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

এরপর দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদেরসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত দেন।

সভায় আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যে বলেন, চলতি মাসের ২৮ তারিখ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও সীমিত আকারে সব পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দিবসটি পালন করতে হবে ।
তিনি সর্বস্তরের মানুষকে দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজনের অনুরোধ জানান।