নিজস্ব প্রতিনিধি: গত বছর ২৩ নভেম্বর জমকালো সপ্তম কংগ্রেসের মধ্যে দিয়ে গঠিত হয় যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এই কমিটিতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশকে ও মাইনুল ইসলাম খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা করেন। আর ঠিক এক বছর পর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে আজ। আর এ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে স্থান পেয়েছে এক ঝাঁক নতুন মুখ।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করেন। আর সেই প্রস্তাব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রহণ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করেন। এবারের কমিটি নতুন পুরাতনের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে বাদ পড়েছেন যুবলীগের গত কমিটির বিতর্কিত নেতারা। পাশাপাশি বয়স ৫৫ বছরের বেশি হওয়ায় বাদ পড়েছেন ৭০ জনের বেশি।
এই কমিটিতে ২৭ জন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মধ্যে ২২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পাঁচটি পদ ফাঁকা রয়েছে। এই ২২ জনের মধ্যে রয়েছেন, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, মঞ্জুর আলম শাহীন, আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, শেখ হেলালের ছোটভাই শেখ সোহেল উদ্দিন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও জাতীয় বীর কর্নেল অব. শওকত আলীর বড় ছেলে ডা. খালেদ শওকত আলী, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ফরিদপুরের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, তাজউদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং, আনোয়ার হোসেন, শাহাদাত হোসেনসহ অন্যরা।

কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন পাঁচ জন। তারা হলেন, বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মো. বদিউল আলম, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছোট ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম ও মো. রফিকুল আলম জোয়ার্দার।

সংগঠনের ৯ সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন, কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, মো. সোহেল পারভেজ, আবু মুনির মো. শহিদুল হক রাসেল, মশিউর রহমান চপল, অ্যাডভোকেট মো. শামীম আল সাইফুল সোহাগ ও প্রফেসর ড. মো. রেজাউল কবির।

এদিকে নতুনদের মধ্যে যুবলীগের আইন সম্পাদকের পদে জায়গা করে নিয়েছেন দেশের আলোচিত তরুন আইনজীবী ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়িদুল হক সুমন।

এছাড়া ২১ জনকে বিভিন্ন দপ্তরের সম্পাদক ও ২১ জনকে দপ্তরগুলোতে উপসম্পাদক পদ দেয়া হয়েছে। ৪১ জনকে দেয়া হয়েছে সহসম্পাদকের পদ, ৭৫ জন রয়েছেন নির্বাহী সদস্য।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে শেখ ফজলুল হক মণির নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেনশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে যুবলীগ।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংগঠন। গত চার দশকের বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতা-কর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে যুবলীগ আজ দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।