বিশেষ প্রতিনিধি: অনবদ্য অনুপম কবিতায় দেশজ চেতনায় স্ফুরিত স্বাধীনতা, সার্বভৌম, একটি বোধের উন্মোচন চেতনা বিকাশে সত্তার নব জাগরণে ব্যক্তিগত হৃদয়ের মাহাত্ম নিয়ে নিটোল আবেগ আর যুক্তিনির্ভরতায় আজ যিনি কানায় কানায় পূর্ণ তিনি কবি বেলাল চৌধুরী।

হাসিখুশি আর দুরন্তপনা নিয়ে ছেলেবেলা থেকে তিনি বেড়ে উঠেছেন। বহতা নদীর মতোই বাঁক নিতে নিতে এগিয়ে এসেছেন এতোটা পথ। তার বিচিত্র গতিসম্পন্ন পরিভ্রমণ পথে আজ ছুঁয়ে আছে শুধু কবিতা আর কবিত্বের কবি বেলাল চৌধুরী। ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী গ্রামে ১৯৩৮ সালের ১২ নভেম্বর তার জন্ম।

স্বশিক্ষিত হতে পারাই হলো একটা মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জন। শরিশাদি স্কুলেই তার প্রাইমারি শিক্ষা শুরু। এরপর ১৯৫৩ সালে ফেনী হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পিতা মরহুম রফিক উদ্দিন চৌধুরী, মাতা মরহুমা মুনির আক্তার চৌধুরী। ৪ ভাই ৫ বোনের মধ্যে বেলাল চৌধুরী সবার বড়। বাবা ছিলেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের চাকুরে। যার কারণে তার রয়েছে বিচিত্র জীবন ধারার অভিজ্ঞতা। চাল চুলোহীন। পদাতিক, বিশ্ব বাউন্ডুলে বেলাল চৌধুরী পরবর্তী সময়ে সাংবাদিতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।

১৯৬৫ সাল থেকে তিনি নিজের অস্তিত্বকে জানান দেবার জন্য লেখালেখি শুরু করেন। শক্তি, সুনীল, শীর্ষেন্দু, উৎপল, সঙ্গীপন প্রমুখ আজকের নক্ষত্ররা এবং সান্নিধ্য ও সস্নেহ প্রশ্রয় পেয়েছেন গৌর কিশোর ঘোষ, নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, সন্তোষ কুমার ঘোষের মতো সহৃদয় মানুষদের। সময়ের ভিতরই তিনি কিছুদিন সম্পাদনা করেছেন কৃত্তিবাসের মতো পত্রিকা।

১৯৭৪ সালে দেশে ফিরে এলেন, বিয়ে করেন কামরুন্নেছ চৌধুরীকে। ১ কন্যা ও ২ ছেলের গর্বিত পিতা তিনি। সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানীর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ কবিতা নিষাদ প্রদশে (১৯৬৪), বেলাল চৌধুরীর কবিতা, আত্মপ্রতিকৃতি, স্থির জীবন ও নিসর্গ, স্বপ্নবন্দী, সেলাই করা ছায়া, যাবজ্জীবন সশ্রম উল্লাসে, বত্রিশ নম্বর প্রভৃতি। নিবন্ধ কাগজে কলমে। শিশুতোষ সপ্তরত্বের কলকারখানা, উপন্যাস-সবুজ ভাষায় ছড়া, ছড়া বত্রিশ দাঁত, ভ্রমণকাহিনী- সূর্যকরোজ্জ্বল বনভূমি প্রভৃতি। তিনি ইংরেজি, ফ্রান্স, রুশ ভাষার অনুবাদ করতে পারেন। যোগ্য কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮৪), নীহার রঞ্জন পুরস্কার (১৯৯২), অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৭) সহ আরও অসংখ্য পুরস্কার। তিনি ভারত, জাপান, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। আগামী দিনগুলোতে তিনি ভালো কাজ করতে ও মানুষের ভালোবাসা নিয়ে চলতে চান।এক মেয়ে সাফিয়া আক্তার চৌধুরী মৌরী এবং দুই ছেলে আব্দুল্লাহ প্রতীক ইউসুফ চৌধুরী ও আব্দুল্লাহ নাসিফ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ষাট দশকের অন্যতম এই কবি।