আমেরিকা মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে। অপরদিকে চীন বলেছে, চীন মিয়ানমারের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী। আমরা আশা করি, মিয়ানমারের সব পক্ষই সংবিধান ও আইনি কাঠামোর আওতায় যথাযথভাবে তাদের মতপার্থক্য পরিচালনা করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টনি ব্লিংকেন, গত সপ্তাহে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বড় কোনো সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। আমেরিকার পক্ষে তিনি “গুরুতর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছেন। তিনি মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপক্ষের কাউন্সিলর অং সান সুচি-সহ সকল বেসামরিক সরকারী কর্মকর্তাদের মুক্তি দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এবং ৮ নভেম্বরের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, আমেরিকা “মিয়ানমারের জনগণের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের জন্য তাদের পাশে রয়েছে”।

এর বিপরীতে, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বেইজিংয়ে একটি দৈনিক নিউজ ব্রিফিংয়ে বলেছেন,মিয়ানমারে যা হয়েছে তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং কী হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা করছি। তিনি কেবল এই অভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি গত মাসে মিয়ানমারে তেল ও গ্যাসের স্বার্থে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতে এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, চীন মিয়ানমারের বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী। আমরা আশা করি, মিয়ানমারের সব পক্ষই সংবিধান ও আইনি কাঠামোর আওতায় যথাযথভাবে তাদের মতপার্থক্য পরিচালনা করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পারবে।

এর আগে, গত সপ্তাহে মিয়ানমারের সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইয়াং যৌক্তিকভাবে নির্বাচনের জালিয়াতিকে চিহ্নিত করেছেন। নির্বাচনে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে মিয়ানমারে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান না হলে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ পরিকল্পনা আছে তাদের। এটি কি অভ্যুত্থান হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র ‘সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না’ বলে মন্তব্য করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

আজ সোমবার থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ফিলিপাইন মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়টিকে জোর দিয়ে চীনকে অনুসরণ করেছে।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান।