বিশেষ প্রতিনিধি: মিডিয়া জগতে এক পরিচিত নাম আমিরুল হক চৌধুরী। দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধর তিনি একাধারে মঞ্চ, টিভি, চলচ্চিত্র অভিনয়, নির্দেশনাসহ একাধিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। নাট্যব্যক্তিত্ব আমিরুল হক চৌধুরীর পিতা-মৃত চৌধুরী মো. দাউদ, মাতা সৈদা লু’ফুন্নাহার চৌধুরী। ১৯৪৬ সালের ২৭ মে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবার জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ঈশ্বরদী জীন্না কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর ঢাকাতে এসে বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আলমগীর কবীর প্রতিষ্ঠিত ফিল্ম ইনস্টিটিউটে লেখাপড়া করেন। ছেলেবেলা থেকেই মূলত মঞ্চ নাটকের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিপ্লব দাস রচিত ‘এক পাথরের গল্প’ নাটকের মধ্য দিয়ে নতুন রূপে মঞ্চে অভিনয় করেন। একটা সময় তিনি বহুবছন নাট্যগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৩ সালের শেষের দিকে ‘কথক’ নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং ৪টি নাট্য বিষয়ক সেমিনার দিয়ে ‘কথক’ এর যাত্রা শুরু হয়। নাটকগুলো ছির নিরাঞ্জন ফিরে এসো, সভাপতি বলবে, মৃত্যু সংবাদ, প্রাগৈতিহাসিক প্রভৃতি। এছাড়াও তখনকার পেশাদার নাট্যগোষ্ঠীর ‘আরণ্যক’ প্রযোজিত নাটক ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’তে ইয়াহিয়া খানের চরিত্রে দুর্দান্ড অভিনয় করেন তিনি।
১৯৭২ সালের শেষের দিকে মরহুম মুছা আহমেদ পরিচালিত ‘রূপান্তর’ নাটকে অভিনয়-এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিজের জায়গা করে নেন। এরপর একে একে সকাল-সন্ধ্যা, সময়-অসময়, এরা থাকে এ ধারে, মাটি ও পিঞ্জরার মাঝে বন্দি হইয়ারে, নিমফুল, হরজীতসহ অনেক প্রখ্যাত নামি-দামি পরিচালক, নাট্যকার এর সৃষ্টি চরিত্রে তিনি অত্যন্ত সহজ, স্পষ্ট, স্বাভাকিভাবে অভিনয় করে সাধারণ দর্শকের মাঝে আমিরুল হক চৌধুরী নিজের অবস্থান আজও দর্শকপ্রিয়তার ঊর্ধ্বে রেখেছেন।
মঞ্চ, টেলিভিশন ছাড়াও ১৯৯৪ সালে সেলিম-আল-দীন রচিত মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘চাকা’তে অভিনয় করেন। যেটি পরবর্তীতে ফ্রান্সের ডানর্কাক এ পুরস্কৃত হয় এবং জাপানের Fukuoka International Film Festivel-এ আমন্ত্রিত ও সংবধিত হন তিনি। এছাড়া একই বছর নাগইয়া International at Center আসরে অভিনয়ের জন্য পুরস্কৃতও হন। এরপর আবু সাইয়ীদ-এর ‘নিরন্তন’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন। যা ভারতে দুটি ফেস্টিভ্যালে পুরস্কৃত হয় ছবিটি। দুখাই, লালসালু ছাড়াও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন। স্ত্রী শাহনীল নাফিছা চৌধুরী (চুমকী) এবং বৃষ্টি, বৃন্ত, শিকর, মাটির গর্বিত পিতা তিনি।
বাবা ছিলেন রেলওয়েতে কর্মরত আর মা ৬০ দশকে ‘বেগম’ পত্রিকায় লিখতেন নিয়মিত কবিতা। তাঁর একটি লিখিত কাব্যগ্রন্থ যার নাম রক্ত রাঙ্গা জবাফুল। তিনি ভাই ও তিন বোনের মধ্যে হক চৌধুরী সকলের বড়।
বহুবিদ গুণের সমন্বয়ে নিজেকে আরও খানিকট শাণিত করতে রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি উপন্যাস। তার মধ্যে যে আলোতে বৃক্ষের ছায়া (১৯৯৮), কফি হাউসের সেই আড্ডাটা (২০০৫), এছাড়াও আরও কয়েকটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর, ‘প্রাগৈতিহাসিক’ নাটকের মাধ্যমে একজন টিভি নাটক নির্মাতা হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করলেন।
তিনি জাপান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্যাংকক, ভারত প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেছেন।
ভালো কাজের পুরস্কার স্বরূপ, তিনি, ঋষিজ, টেনাশিনাস, স্বাধীনতা অ্যাওয়ার্ড, এ ওয়ান টেলিমিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে মানুষের ভালবাসাকে সাথে নিয়ে ভালো কিছু নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে সচেষ্ট থাকতেন।