তিমির চক্রবর্ত্তী: ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের তথা ভারতীয় উপমহাদেশের অবিসংবাদিত নেতা সুভাষচন্দ্র বসু। ব্রির্টিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন আর সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী এই নেতা পরবর্তীকালে নেতাজী নামে পরিচিতি পান। তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তি নেতা । নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত । সুভাষচন্দ্র ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শ তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল । ছাত্রাবস্থা থেকে তিনি তাঁর দেশপ্রেমিক সত্ত্বার জন্য পরিচিত ছিলেন ।

সুভাষ চন্দ্র বসুর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হল, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” (হিন্দিতে, তুম মুঝে খুন দো, ম্যায় তুমহে আজাদি দুঙা) । ৪ জুলাই ১৯৪৪ সালে বার্মাতে এক র‌্যালিতে তিনি এই উক্তি করেন । তার আর একটি বিখ্যাত উক্তি হল “ভারতের জয় (” জয় হিন্দ “), যা পরবর্তীকালে ভারত সরকার গ্রহণ করে নেয় ।- সুভাষচন্দ্র বসুর এ উক্তি থেকেই ঠাহর করা যায় কতটুকু তেজস্বী নেতা ছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরেও তাঁর মতাদর্শের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, বরং এই যুদ্ধকে ব্রিটিশদের দুর্বলতার সুবিধা আদায়ের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন । যুদ্ধের সূচনা লগ্নে তিনি লুকিয়ে ভারত ত্যাগ করেন । ভারতে ব্রিটিশদের আক্রমণ করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন, জার্মানি ও জাপানীদের সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করেন । জাপানিদের সহযোগিতায় তিনি ’আজাদ হিন্দ ফৌজ’ পুনর্গঠন করেন এবং পরে তার নেতৃত্ব দান করেন । এই বাহিনীর সৈনিকেরা ছিলেন মূলত ভারতীয় যুদ্ধবন্দী এবং ব্রিটিশ মালয়, সিঙ্গাপুর সহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরত মজুর । জাপানের আর্থিক, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তায় তিনি ’আজাদ হিন্দ’ সরকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্বদান করে ব্রিটিশ মিত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ইম্ফল ও ব্রহ্মদেশে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

কংগ্রেস কমিটি যখন ভারতের অধিরাজ্য মর্যাদা বা ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের পক্ষে মত প্রদান করে, তখন সুভাষচন্দ্রই প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে মত দেন । জওহরলাল নেহরু সহ অন্যান্য যুব নেতারা তাঁকে সমর্থন করেন । শেষপর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের ঐতিহাসিক লাহোর অধিবেশনে কংগ্রস পূর্ণ স্বরাজ মতবাদ গ্রহণে বাধ্য হয় । ভগৎ সিংহের ফাঁসি ও তাঁর জীবন রক্ষায় কংগ্রেস নেতাদের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ সুভাষচন্দ্র গান্ধী-আরউইন চুক্তি বিরোধী একটি আন্দোলন শুরু করেন । তাঁকে কারারুদ্ধ করে ভারত থেকে নির্বাসিত করা হয় । নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তিনি ভারতে ফিরে এলে আবার তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয় ।

প্রথম জীবন:- সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি ওড়িশা রাজ্যের (ওড়িয়া বাজার) কটক শহরে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন কটক-প্রবাসী বিশিষ্ট বাঙালি আইনজীবী জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবীর চোদ্দো সন্তানের মধ্যে নবম সন্তান । ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত সুভাষচন্দ্র একটি কটকের ইংরেজি স্কুলে পড়াশোনা করেন, বর্তমানে এই স্কুলটির নাম স্টিওয়ার্ট স্কুল । এরপর তিনি কটকের র‌্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন । ১৯১১ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেন ও ১৯১৮ সালে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনে সাম্মানিক সহ বি.এ. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ।

এরপর সুভাষচন্দ্র কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজউইলিয়াম হলে উচ্চশিক্ষার্থে ভর্তি হন । সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেয়ে তিনি প্রায় নিয়োগপত্র পেয়ে যান । কিন্তু বিপ্লব-সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সেই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন । এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “কোনো সরকারের সমাপ্তি ঘোষণা করার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হল তা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া ” । এই সময় অমৃতসর হত্যাকান্ড ও ১৯১৯ সালের দমন মূলক রাওলাট আইন ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছিল । ভারতে ফিরে সুভাষচন্দ্র স্বরাজ নামক সংবাদপত্রে লেখালিখি শুরু করেন এবং বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রচার দায়িত্বে নিযুক্ত হন । বাংলায় উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন । ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু যখন কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন, তখন সুভাষচন্দ্র তাঁর অধীনে কর্মরত ছিলেন । ১৯২৫ সালে অন্যান্য জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে তাঁকেও বন্দী করা হয় এবং মান্দালয়ে নির্বাসিত করা হয় । এখানে তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ।

কর্মজীবন ও রাজনীতিতে প্রবেশ:- প্রায় বিশ বছরের মধ্যে সুভাষ চন্দ্রকে মোট ১১ বার গ্রেফতার করা হয়েছিলেন এবং তাঁকে ভারত ও রেঙ্গুনের বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছিল । ১৯৩০ সালে তাঁকে ইউরোপে নির্বাসিত করা হয় । ১৯৩৪ সালে তিনি ভিয়েনায় এমিলি সেচঙ্কল এর সাথে পরিচিত হন । তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের উদ্দ্যেশ কিচ্ছুক্ষণের জন্য কলকাতায় আসার অনুমতি দেয় । ১৯৩৮ সালে তিনি গান্ধীর বিরোধীতার মুখে ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৩৯ সালে ত্রিপুরি অধিবেশনে তিনি দ্বিতীয় বারের জন্য কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন । এ নির্বাচনে গান্ধী পট্টভি সিতারামায়াকে সমর্থন দেন, নির্বাচনের ফলাফল শোনার পর গান্ধী বলেন “পট্টভির হার আমার হার “। সুভাষ চন্দ্র বসু এ নির্বাচনে জয় লাভ করলেও গান্ধীর বিরোধীতার ফল স্বরূপ তাকে বলা হয় পদত্যাগ পত্র পেশ করতে নইলে কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য পদত্যাগ করবেন । এ কারণে তিনি নিজেই কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক (অষষ ওহফরধ ঋড়ৎধিৎফ ইষড়পশ) গঠন করেন । ১৯৩৮ সালে তিনি জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদের প্রস্তাবনা দেন ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:-সুভাষ চন্দ্র বসু প্রস্তাব করলেন, কবে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের স্বাধীনিতার অনুমোদন দেবে, তার জন্য বসে না থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুবিধা নেওয়া উচিত । তিনি বিশ্বাস করতেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নির্ভর করে অন্য দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও কুটনৈতিক সমর্থনের উপর । তাই তিনি ভারতের জন্য একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করেন ।

ভারত থেকে পলায়ন:- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সুভাষচন্দ্র বসুর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ব্রিটিশ সরকার ভারত রক্ষা আইনে ১৯৪০ সালে সুভাষচন্দ্র বসুকে মারাত্মক বিপ্লবীরূপে পরিগণিত করে গ্রেফতার করে প্রথমে ‘আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে’ কারারুদ্ধ করে রাখে ও পরে অসুস্থতার কারণে কলকাতার এলগিন রোডে নিজের বাসভবনেই তাঁকে কড়া পুলিশ পাহারায় নজরবন্দি করে রাখে । তিনি বুঝতে পারলেন ব্রিটিশরা তাঁকে যুদ্ধের আগে ছাড়বে না । তাই তিনি দুইটি মামলার রায় বাকি থাকতেই আফগানিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়ে জার্মানী পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন । ১৯৪১ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে তিনি একটি গাড়িতে করে পালিয়ে প্রথমে মথুরাতে যান । তারপর ‘গিয়াসউদ্দিন’ ছদ্মনামে কাবুলে যান । সেখান থেকে মস্কোতে যান এবং স্ট্যালিনের কাছে অসহযোগিতার ধারণা পেয়ে তিনি ১৯৪১ সালে ২৮ মার্চ জার্মানির রাজধানী বার্লিনে এসে উপনীত হন । বার্লিনে প্রবাসী ভারতীয়গণ তাঁকে নেতাজি আখ্যা দেন এবং জয়হিন্দ ধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন । এখানে এসে নেতাজি হিটলারের বিদেশমন্ত্রী রিবেন ট্রপের সঙ্গে দেখা করেন । ইটালির মুসোলিনীর সঙ্গেও তিনি দেখা করেন । পরে জার্মান সরকারের সহায়তায় জার্মানির হাতে বন্দি ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে তিনি ভারতীয় মুক্তিবাহিনী গঠনের চেষ্টা করেন । এ সময় বার্লিন বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি নিয়মিত ভারতবাসীর উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে অবতীর্ণ হবার আহ্বান জানাতেন।

ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী:- ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী ( ওঘঅ – ওহফরধহ ঘধঃরড়হধষ অৎসু) মূলত গড়ে উঠেছিল জাতীয়তাবাদী নেতা রাসবিহারি বসুর হাতে, ১৯৪৩ সালে রাসবিহারি বসু এই সেনাবাহিনীর দ্বয়িত্ব সুভাষ চন্দ্র বসুকে হস্থান্তর করেন। একটি আলাদা নারী বাহিনী (রানি লক্ষ্মীবাঈ কমব্যাট) সহ এতে প্রায় ৮৫,০০০ হাজার সৈন্য ছিল। এই বাহিনীর কর্তৃত্ব ছিল প্রাদেশিক সরকারের হাতে, যার নাম দেওয়া হয় “মুক্ত ভারতের প্রাদেশিক সরকার” (আরজি হুকুমাত-ই-আজাদ হিন্দ)। এই সরকারের নিজস্ব মুদ্রা, আদালত ও আইন ছিল । অক্ষ শক্তির ৯ টি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দান করে । আই.এন.এ.-র সৈন্যরা জাপানিজদের আরাকান ও মেইক্টিলার যুদ্ধে সাহায্য করে ।

সুভাষ চন্দ্র বসু আশা করেছিলেন, ব্রিটিশদের উপর আই.এন.এ.- র হামলার খবর শুনে বিপুল সংখ্যাক সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে হতাশ হয়ে আই.এন.এ.-তে যোগ দেবে । কিন্তু এই ব্যাপারটি তেমন ব্যাপকভাবে ঘটল না । বিপরীতদিকে, যুদ্ধে পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে জাপান তার সৈন্যদের আই.এন.এ. থেকে সরিয়ে নিতে থাকে । একই সময় জাপান থেকে অর্থের সরবরাহ কমে যায় । অবশেষে, জাপানের আত্মসমর্পণের সাথে সাথে আই.এন.এ. ও আত্মসমর্পণ করে ।

সম্মাননা:-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাষচন্দ্রকে ‘দেশনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তাসের দেশ নৃত্যনাট্যটি তাঁকে উৎসর্গ করেন । উৎসর্গপত্রে লেখেন: ” স্বদেশের চিত্তে নূতন প্রাণ সঞ্চার করবার পূণ্যব্রত তুমি গ্রহণ করেছ, সেই কথা স্মরণ করে তোমার নামে ‘তাসের দেশ’ নাটিকা উৎসর্গ করলুম ।” গান্ধীজিও তাঁকে বলেছিলেন “প্যাট্রিয়ট অব প্যাট্রিয়টস”। আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলেও, সুভাষচন্দ্রের শৌর্য ও আপোষহীন রণনীতি তাঁকে ভারতব্যাপী জনপ্রিয়তা দান করে। নেতাজির জন্মদিনকে বর্তমান ভরত সরকার ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে। সেই ঘোষণা অনুযায়ি এবছর তারঁ জন্মদিনকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসাবে পালন করে সারা ভারতবাসী। পশ্চিমবঙ্গে এই দিন রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। স্বাধীনতার পর কলকাতার একাধিক রাস্তা তাঁর নামে নামাঙ্কিত করা হয়। বর্তমানে কলকাতার ইন্ডোর স্টেডিয়াম নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম তাঁর নামে নামাঙ্কিত। নেতাজির জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে দমদম বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তিত করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হয় । তাঁর নামে কলকাতায় স্থাপিত হয় নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং দিল্লিত স্থাপিত হয় নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি। কলকাতা মেট্রোর দুটি স্টেশন বর্তমানে নেতাজির নামাঙ্কিত: “নেতাজি ভবন” (পূর্বনাম ভবানীপুর) ও “নেতাজি” (পূর্বনাম কুঁদঘাট)।

নিখোঁজ ও মৃত্যু:- নেতাজীর মৃত্যু নিয়ে সঠিক কোন ইতিহাস এখনো পাওয়া যায়নি। একটি মতে নেতাজী সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে বন্দী অবস্থায়, সাইবেরিয়াতে মৃত্যুবরণ করেন। অন্য মতে মনে করা হয় ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানে একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় (যদিও এই মত বিতর্কিত)। তবে তাঁর এই তথাকথিত দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বিরুদ্ধ প্রমাণও বিদ্যমান ।