বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা মো. হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে সংসদে কথা বলতে না দেওয়ার মাধ্যমে অধিকার ক্ষুন্নের অভিযোগ করেন বিএনপি এমপি। তার বক্তব্য স্পিকার অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন।

এ সময় স্পিকার বলেন, আপনি যতবারই পয়েন্ট অব অর্ডারে সময় চেয়েছেন, আমি না বলিনি। আমি অপেক্ষা করতে বলেছি। বলেছি, আমাদের হাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম রয়েছে, যেগুলো দৈনিক কার্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত। আপনি কার্যপ্রণালী বিধি দেখাচ্ছেন, বিধি অনুযায়ী দৈনিক এজেন্ডাভুক্ত বিষয়গুলোকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। তারপরে আমি অনির্ধারিত আলোচনায় যেতে পারি। কাজেই আপনার কোনও অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়নি। আপনাকে দৈনিক কাজ শেষে যে সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম, সেটা আপনি গ্রহণ করেননি। সেটা আপনার বিষয়।

তিনি আরো বলেন, আপনি সংসদ অধিবেশনে সারাক্ষণ উপস্থিত থাকতে চাননি। আপনি চলে গেলেন। সেটা আপনার বিষয়। আপনি আমার কথা অনুযায়ী যদি শেষ অবধি থাকতেন, অবশ্যই আমি আপনাকে সময় দিতাম। তাহজিব আলম সিদ্দিকীকে সেইভাবে সুযোগ দিয়েছি।

সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. শিরীন শারমিন বলেন, একটি বিষয় আপনাকে অবশ্যই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, এটা কোভিডকালীন সময়। পেনডামিকের মধ্যে সংসদ পরিচালনা করছি। কাজেই এসব বিষয় মাথায় রেখে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সংসদ পরিচালনা করতে হয়। সামগ্রিকভাবে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ১০ দিন আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে যে কথাটি বলেছেন, তা যুক্তিসঙ্গত নয়, গ্রহণযোগ্য নয়।

এরআগে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, সংসদ আজ ১০ দিন হলো চলছে। আমি বহু চেষ্টা করেছি সমসাময়িক কথা বলার জন্য। সবসময় দেখেছি, বিরোধী দলকে অনির্ধারিত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু১০ দিনের মধ্যে সুযোগ দেওয়া হয়নি। কথা বলার সুযোগ দেওয়া না হলে সংসদে বিরোধী দল কী কাজ করবে? তিনি আরো বলেন, আমি প্রত্যেক দিন হাত তুলেছি। আপনি বলে দিলেন, সব আলোচনা শেষ হওয়ার পর দেবেন। কাযর্প্রণালী বিধিতে এ ধরনের কিছু নেই। সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠকে স্তব্ধ না করে দিয়ে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। আমাদের স্পেস দিতে হবে। কথা বলার ব্যবস্থা করতে হবে। ভাস্কর্য ও মূর্তি নিয়ে গত দুই মাসে যে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আলেমদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার মতো যে অশালীন কথাবার্তা বলা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত।

সংসদে বিরোধী দল আছে কিনা সেই প্রশ্ন তুলে বিএনপি এমপি বলেন, সংসদে আমরা কথা বললে তার কাউন্টার দেয় যাদের আপনারা (সরকার) বিরোধী দলে বসিয়েছেন তারা। বিরোধী দল আর সরকারি দল বাইরে তো একাকার। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী আছে? চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, অন্যান্য জায়গায় মহাজোটের শরিকরা একসঙ্গে ভোট করছে। সংসদের বাইরে এক চরিত্র ভেতরে এসে কি ভিন্ন চরিত্র করা সম্ভব? একসঙ্গে মধ্যরাতে ভোট করলেন। এখন তাদের বিরোধী দলের চেয়ারে বসালেন। এটা কি হয়?

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, সংসদে সত্য বলতে গেলে সরকারি দল ও মহাজোটের সদস্যরা অসন্তুষ্ট হন। তবে আমি সত্য কথা বলবোই। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি বলে মহাজোটের শরিক রাশেদ খান মেনন বলেছেন। এখন সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি মির্জা কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আজকে নির্বাচন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীর যারা এমপি আছেন, তাদের দুই/তিন জন ছাড়া কেউ পালানোর দরজা খুঁজে পাবেন না। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তাল্কুদার বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অনিয়মের নির্বাচনের মডেল।’ তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়নি।’ সহিংসতা ও নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে না। তিনি আরো বলেন, যশোরের এক এমপির ওসির সঙ্গে কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে। সরাসরি তিনি ওসিকে থানায় বোমা নিক্ষেপ করতে বলেছেন। মামলা দিতে বলেছেন। চট্টগ্রামে মেজর সিনহা হত্যার পর তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হয়েছে। যে রিপোর্ট দাখিল হয়েছে তা উদ্বেগের। সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে ওয়াকিটকি, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হলো। কিন্তু তার ফাইনাল তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের ডিজি বলছেন, ‘আমরা যে অভিযোগ দাখিল করেছি তা সত্য।’ আর পুলিশ দিচ্ছে ফাইনাল রিপোর্ট। এগুলো আইনের শাসনের পরিপন্থী। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।