চট্রগ্রাম প্রতিনিধি: আজ (২ অক্টোবর) শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি শিরিষ তলায় সামাজিক সংগঠন ‘তিলোত্তমা চট্টগ্রাম’ আয়োজিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন’ সংশ্লিষ্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশে যেসব রোহিঙ্গারা এসেছিল তাদের অনেকেই এখনো আছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি তো দশ বছর ক্ষমতায় ছিলো, তাদের সময়ে যে রোহিঙ্গারা এসেছিল তাদেরকে তারা ফেরত পাঠাতে পারেননি কেন?

হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। এতে সমগ্র পৃথিবী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যম প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব হিমিউনিটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সমগ্র পৃথিবী প্রশংসা করলেও বিএনপি প্রশংসা করতে পারেনি। আর এটাই বিএনপির চরিত্র।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই ওআইসি’র পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমারের বিচার হচ্ছে। আমাদের সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে চাপের মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে চায়। আমরা কোন যুদ্ধ বিগ্রহ চাই না।

হাসান মাহমুদ বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সফলতা এসেছে । আন্তর্জাতিক আদালত থেকে মায়ানমারকে সমন দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি কিছু নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে যাবার জন্য বলা হয়েছে। অনেককে বিচারের আওতায় আনতে বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মায়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালত থেকে তিরস্কারের মতোই করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশেরই কূটনৈতিক তৎপরতার সফলতা।

হাছান মাহমুদ নিজেকে পরিবেশ বিজ্ঞানের ছাত্র উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১০ বছর পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। আমি এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান পড়ানোর চেষ্টা করি এবং সপ্তাহে অন্তত ১টি ক্লাস নেয়ার চেষ্টা করি। সুতরাং যখন দেখি মাঠের মধ্যে অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়, সেটি মনে হয় আমার বুকের মধ্যে কেউ একটা পেরেক বিঁধে দিল। এভাবেই সবুজ ও প্রকৃতি নষ্ট করা হচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ল্যান্ড জোনিংয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এটি সম্পন্ন হলে গ্রামেও যার যেখানে ইচ্ছা বাড়ি করা যাবে না। কোন জায়গায় কি ধরণের বাড়ি করা যাবে সেখানে সরকার নির্ধারণ করে দেবে।