স্টার্ফ রিপোর্টার: করোনা মহামারীতে এমনিতেই মানুষ আছে জীবন ঝুঁকিতে। এর মধ্যে দেশে বন্যা আম্ফানের প্রভাব এবং অতিবিষ্টিতে তলিয়ে গেছে মাঠ, ঘাটসহ ফসলি কৃষি জমি। এ যেন মরার উপর খরার ঘা। তাই দেশের পাইকারী ও খুচরা বাজারে সব্জির দাম বেড়েই চলেছে। গত তিন মাস হলো সবজি বাজারে একই অবস্থা বিরাজ করছে। ক্রেতা সাধারণ হিমসিম খাচ্ছে সবজি কিনতে। আবার পাইকারি ও খুচরা সবজির বাজারে দামের তফাত অনেক। যেমন মেহেরপুরে সবজি পাইকারি থেকে খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি। আর কুমিল্লায় পাইকারির তুলনায় খুচরায় কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেশি। চাষি, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষেতে সবজি নষ্ট হয়েছে। সবজি উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ বা জোগান কম। এ জন্য দাম বেশি।
ঢাকার পাইকারী ও খুচরা বাজারে একই অবস্থা বিরাজ করছে।

শুক্রবার কাওরান বাজারে গিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি শসা পাইকারি ৬০, খুচরা ৮০-১০০ টাকা; পটোল পাইকারি ৪৫, খুচরা ৬০-৭০; করলা পাইকারি ৫০, খুচরা ৬০ টাকা; কাঁকরোল পাইকারি ৪০, খুচরা ৫০-৫৫; বেগুন পাইকারি ৬০, খুচরা ৮০-১০০ টাকা; আলু পাইকারি ৩৫, খুচরা ৪০; কচু পাইকারি ২৫-৩০, খুচরা ৪০-৫০; পেঁয়াজ পাইকারি ৬০, খুচরা ৯০-১০০ টাকা; রসুন পাইকারি ৮০, খুচরা ৯০-১০০ টাকা; পেঁপে পাইকারি ২০, খুচরা ৩০; আগাম বাঁধাকপি পাইকারি ২৫, খুচরা ৪০-৫০ টাকা; গাজর পাইকারি ১০৫, খুচরা ১২০; টমেটো পাইকারি ৯০, খুচরা ১১০-১২০; লাউ পাইকারি ৪২, খুচরা ৫০-৬০; ঢেঁড়স পাইকারি ৩৫, খুচরা ৪৫ খুচরা ৬০টাকা; ঝিঙা পাইকারি ৪৫, খুচরা ৫০-৬০; কাঁচা মরিচ পাইকারি ১৫০, খুচরা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় উৎপাদন তথা জোগান কম থাকায় কৃষকরা মাঠ থেকে সবজি পাইকারি হাটগুলোতে আনামাত্রই কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। তাতে কৃষকরা মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছেন। তাই পাইকারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেশি। আবার দেশের অন্যান্য এলাকার সবজি ঢাকা নিয়ে বিক্রি করতে পরিবহন খরচসহ দাম অনেক পড়ে। শীতের সবজি না আসা পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে জানান পাইকারী আড়তদাররা।