নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ২৮ সেপ্টেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪ তম জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজইনফিনিটি ডটনেট এর প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যক্ষ সুখেন্দু শেখর বৈদ্য এবং সম্পাদক তিমির চক্রবর্ত্তী সহ পত্রিকাটির সাংবাদিকবৃন্দ।

অধ্যক্ষ সুখেন্দু শেখর বৈদ্য তাঁর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনা এক ও অভিন্ন। তিনি ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ পরিক্রমা, শত বাঁধা বিপত্তি, আন্দোলন সংগ্রামের পথ অতিক্রম করে জীবনের ঝুকি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, তাঁর প্রচেষ্টায় আজ বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমানে উন্নয়নের স্রোতধারা অক্ষুন্ন রেখে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় পৌঁছে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে শেখ হাসিনার ঘোষিত ভিষণ ২০-২১ এবং ভীষণ ২০৪১ বাস্তবায়নে তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যা বিশ্বে উন্নত দেশের তালিকায় পৌঁছাবে। তাই এই মাদার অফ হিউম্যানিটি, উন্নয়নের বাতিঘর বেঁচে থাকুক আরো অনেক বছর।

তিমির চক্রবর্ত্তী ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের আলোর দিশারী, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির কাণ্ডারী, উন্নয়নের অগ্রদূত শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করার সৌভাগ্য যেন তিনি জীবিত থাকাবস্থায় আরো বহু বছর হয়।তিনি বেঁচে থাকুক শত বছর।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য, জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করার জন্য, জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার কেড়ে নেয়ার জন্য, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বাঁচাবার জন্য শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শতসহস্র বাঁধা বিপত্তি ও মহামারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন পর্বত শিখরে। যা দেখে বিশ্ব ঈশ্বান্বিত হয়ে পড়েছেন।আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট হেনরি কিচিঞ্জারের দেয়া বক্তব্য বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুঁড়ি শেখ হাসিনা আজ পরিনত করেছেন স্বর্ণ খচিত পরিপূর্ণ ঝুঁড়িতে। তাই তিনি যেন হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ এশিয়ার লৌহ মানবী।

তিমির চক্রবর্ত্তী বলেন, কার্যত বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের মতো আলো দিশারী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। আপোষহীন, তেজী, দৃরদৃষ্টি সম্পন্ন এই নেত্রী সংগ্রাম করেই আজ বিচক্ষণ রাষ্ট্র এক রাষ্ট্রনায়কে পরিনত হয়েছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে ও অসাম্প্রদায়িক অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন উন্নত রাষ্ট্র কাঠামো, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ দেশ গঠনে আমরা নেই দীপ্ত শপথ। দেশ গড়ার এই কারিগর বেঁচে থাকুক অনন্তকাল। এই হোক আজকের দিনের তাঁর প্রতি আমার প্রত্যাশা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রতিমুহুর্তে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বিবিসি তার সংবাদ ভাষ্যে ৮১ সালের ১২ জুন বলেছে, ‘তার পিতার নৃশংসতম মৃত্যুর পর বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন নি:সন্দেহে একটি বড় ব্যাপার। তার এই অদম্য সাহস সম্ভবত তিনি অর্জন করেছেন তাঁর পিতার কাছ থেকে।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার সাহস এবং তেজদীপ্ততার জন্য বাঙ্গালীর আস্থা অর্জন করেছিলেন।

কার্যত সেদিন সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগমনে আস্থাহীন জাতির যেন এক অনন্য রূপান্তর ঘটে যায়। স্বকীয় প্রতিভাগুনে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কের আদর্শকে প্রবলভাবে পুরো জাতির মনে আবার জাগিয়ে তুললেন। হঠাৎ করেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ যেন জেগে উঠল। সেই যে তার যাত্রা শুরু তারপর তিনি আর পিছন ফিরে তাকাননি। তিনি আজ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী এবং বঙ্গবন্ধু প্রেমী কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনিই একমাত্র আস্থার, আশা ও ভরসার প্রতীক। জাতিকে সূর্যের কিরনের মতো আলো দিয়ে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান নেতা, বাংলাদেশের জাতির জনক ও বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য কন্যা। তাঁর মাতার নাম বেগম ফজিলাতুননেসা। যিনি আজ বঙ্গমাতা হিসাবে পরিচিত।

শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধুমতি নদীর কোল ঘেষা ঐতিহ্যবাহী জনপদ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। সবুজ আচ্ছাদিত মধুমতি ও বাইগার নদী তীরে কেটেছে তাঁর শৈশব। এরপর ১৯৫৪ সালে যখন তার বয়স মাত্র ৭ বছর তখন তিনি বাবার সাথে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় পরিবারের সাথে মোগলটুলির রজনীবোস লেনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।পরে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে উঠেন। এ বছরই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন হয়েছিলো। এরপর ১৯৬১ সালের ১ অক্টােবর শেখ হাসিনা বাবা-মার সাথে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। এসময় তার সংগ্রামী পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তৎকালীন পাকিস্তান শাসকরা গ্রেপ্তার করে। মায়ের স্নেহেই তিনি এক প্রতিকুল পরিবেশে সততা, ত্যাগ এবং রাজনৈতিক দৃঢ়তা নিয়ে বেড়ে উঠতে থাকেন।

১৯৫৬ সালে তিনি টিকাটুলির নারীশিক্ষা মন্দির বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৬২ সালে তিনি ঢাকার আজিমপুর গালর্স স্কুলের ছাত্রী। এ সময় কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট দিলে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজিমপুর গালর্স স্কুল থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে।

১৯৬৬ সালে বেগম বদরুন্নেসা কলেজের ছাত্রী সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসাবে বিপু্ল ভোটে শেখ হাসিনা সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী হন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন। এবছরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার ঘোষণা দেন। তিনি ছয় দফার পক্ষে রাজপথে সোচ্চার হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাবস্থায় ১৯৬৭ সালে বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সালে গণঅভ্যুণ্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ইতিহাসের নৃশংসতম নারকীয় হত্যাজযজ্ঞ চালায় বাঙ্গলীদের ওপর। এসময় অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অন্তরীন করে রাখা হয় ধানমণ্ডির একটি বাড়ীতে। আর সেই বাড়ীতেই পরিবারের সবার সাথে মুক্তিযুদ্ধে নয় মাস অন্তরীণ ছিলেন।

১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা দামাল ছেলেরা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং শেখ হাসিনা সহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের মুক্ত করেন। ১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ তিনি তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে পশ্চিম জার্মানিতে যান। সঙ্গে নিয়ে যান তার আদরের ছোট বোন শেখ রেহানাকে। আর এ কারণেই ৭৫ এ ১৫ আগষ্ট ঘাতকদের হাত থেকে বেঁচে যান দুই বোন।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসার পর বিমান বন্দরে লক্ষ জনতার উত্তাল আবেগময় কন্ঠে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি, আপনাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।”

দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অগণতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক, এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। এরপর বহু জেল জুলুম অত্যাচার সহ্য করে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পারি দিয়ে অবশেষে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে ২১ বছর পর আবার ক্ষমতায় আসে আ:লীগ। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেই তিনি দেশের কতগুলো মৌলিক সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেন ,যা দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। শতবছরের ইতিহাসে এসময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়। শিল্পে আসে গতি, দারিদ্র সীমার নিচের মানুষদের বাঁচাতে নেয়া হয় নানা পদক্ষেপ। পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে দেশের দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান করেন। বাতিল হয় কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ আইন। সে সময় তিনি বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ, ২১ ফেব্রুয়ারিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি প্রভৃতি।সারা বিশ্বে ক্রমেই দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হতে থাকে। শুরু হয় উন্নয়নের নবতর ধারা।

২০০১ সালে বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবারও রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা।থমকে যায় উন্নয়নের ধারা । বিশেষ ভবন হয়ে উঠে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। এ ভবনের দিক নির্দেশনায় একটি সাজানো যড়ষন্ত্রমুলক জাতীয় নির্বাচনের দিকে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট নি:শংস গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যা করার করার চেষ্টা করা হয়। আ:লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে। অলৌকিক ভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এ হামলায় নেত্রী আইভী রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। এর আগেও ঘাতক চক্র ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলো।

১/১১ ঘটনা দেশকে ভয়াবহ সংকট থেকে রক্ষা করলেও তত্বাবধায়ক সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে ২০০৭ সালের ১৫ জুলাই আ:লীগ সভনেত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একের পর এক তিনি হত্যার চক্রান্ত থেকে বেঁচে যান। পরে প্রবল জনমত ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণে সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। অবশেষে ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর বহু প্রতিক্ষীত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় আসে।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি তিনি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালের ৯ মে তার স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যু তাকে আবার শোকাগ্রস্ত করে। তিনি শোককে শক্তিতে পরিনত করে দেশ গড়ার কাজে লিপ্ত হন। আর বিজয়ী হয়েই শুরু করেন উন্নয়নের অগ্রযাত্রা।

এরপর ২০১৪ সালে ৫ জনুয়ারি নির্বচনে তৃতীয়বারের মতো এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তার নেতৃত্বে শুরু হয় রূপকল্প-২০২১-এর শুভযাত্রা। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার। দারিদ্র্যের হার কমে হয়েছে ২০ শতাংশ। এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছে। নিজ উদ্যোগে এবং অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সমাপ্তির পথে। ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, দেশের তৃতীয় পায়রা সমূদ্র বন্দর, রামপাল ১২০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প সহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এ ছাড়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, ১২০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, সবার জন্য বিদ্যুৎ, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, দেশের ২৬ হাজার রেজিস্টার প্রাথমিক শিক্ষকদের সরকারী করা, ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের সীমান্ত বিরোধ চুক্তি, আন্তর্জাতক আদালতে সমূদ্র সীমানা বিজয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ, নানামুখী পদক্ষেপ ও কর্মপরিকল্পনা শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে। কুখ্যাত দাগি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা ছাড়াও স্বাধীন বিচার বিভাগ, ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্রগ্রামে কর্ণফুলি টার্নেল, হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পসহ বড় বড় উউন্নয়ন মুলক প্রকল্প হাতে নিয়ে আধুনিক উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমানে তিনি এগিয়ে চলেছেন দুর্বার গতিতে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপন বিশ্বে দেশকে এনে দিয়েছে নতুন মর্যাদা। এসব কর্মসস্পাদনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে পরিমান আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়। শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে আজ বিশ্ব বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত হয়েছে। বিশ্বের যে পাঁচটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশ এখন একটি। বিশ্ব উন্নয়ন ও শান্তি প্রচেষ্টায় তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্ব নেত্রী।

এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে করোনা মহামারীর সংক্রমণ মোকাবিলা করে শেখ হাসিনা ত্বরিত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন। দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখা এবং জীবন ও জীবিকা রক্ষায় তিনি ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। পাশপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সারা দেশে ব্যাপকভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, নগদ টাকা প্রদানসহ বিভিন্ন বাস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেন। করোনার সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাত ও বন্যায় তিনি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন। শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও দেশ পরিচালনার নীতি পরিবর্তন করেছে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনযাত্রা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দারিদ্র্য বিমোচনে তাঁর প্রণীত ছয় দফা গৃহীত হয়েছে। সারাবিশ্বে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থা শেখ হাসিনা প্রণীত দারিদ্র্য বিমোচন নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে।

তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশের অর্থনীতির চাকা। বিদায়ী ২০১৭-১৮ অর্থ বছরেও চুড়ান্ত হিসাবে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭.৮৬ শতাংশ। অংকে যার আকার ২২ লাখ ৫০৪ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। মাথাপিছু জাতীয় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৫১ ডলার। টাকার অংকে যার পরিমান এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। মাসে একজন মানুষের গড় আয় ১১ হাজার ৯৮২ টাকা। দারিদ্রের হার ২২.৪ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমাতা ২০ হাজার মেঘাওয়াটে উত্তীর্ণ হয়েছে। ৩০ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩ হাজার ৭২৯ কোটি ডলার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ তিন লাখ ১৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি এবং পুরস্কার প্রদান করে। সামাজিক কর্মকান্ড, শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা সম্মানিত করেছে। শেখ হাসিনার সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ৩৯টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থের রচিয়তা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ‘‘শেখ মুজিব আমার পিতা’’, ওরা টোকাই কেন?, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’’, দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’’, ‘‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’’, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’’, ‘‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’’, ‘‘সাদা কালো’’, ‘‘সবুজ মাঠ পেরিয়ে’’, Miles to Go, The Quest for Vision-2021 (two volumes)।

শেখ হাসিনা ‘‘জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’’ এর সভাপতি। তিনি গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দরিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য । প্রযুক্তি, রান্না, সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ পুতুল একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনীর সংখ্যা ৭ জন।