ডেস্ক রিপোর্ট: গত শুক্রবার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকারের তথ্যমন্ত্রী কামরান বাঙ্গাস জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ এক দল মুসলিম ধর্মাবলম্বীর হাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া হিন্দু মন্দির আঞ্চলিক সরকারের তহবিল ব্যবহার করে পুনর্নির্মাণ করা হবে। গত বুধবার মন্দিরে হামলার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতোমধ্যে স্থানীয় এক মুসলিম নেতাসহ বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় একশ’ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বের শহর কারাকের শ্রী পরমহংস জি মহারাজ সমাধি মন্দিরে গত বুধবার হামলার ঘটনা ঘটে। মন্দির ঘেঁষা একটি ভবন নির্মাণের প্রতিবাদ করার পর মন্দিরের দেওয়াল ভেঙে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় প্রায় দেড় হাজার মানুষের একটি দল।

শুক্রবার প্রাদেশিক সরকারের তথ্যমন্ত্রী কামরান বাঙ্গাস বলেন, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির এই নেতা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মন্দির এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িটি পুনর্নির্মাণ করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।’ প্রাদেশিক তথ্যমন্ত্রী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সহায়তা নিয়ে শিগগিরই মন্দির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এছাড়া সেখানকার নিরাপত্তা বাড়ানোর ঘোষণাও দেন তিনি।

জেলা পুলিশ প্রধান ইরফানুল্লাহ খান জানিয়েছেন মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় জড়িত হিসেবে এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্থানীয় মুসলিম নেতা মুল্লাহ শরিফও রয়েছেন। তার বিরুদে্ধ ওই ঘটনায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জেলা জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের নেতা মুল্লাহ মির্জা আকিমকে খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে বৃহস্পতিবার মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় একটি প্রতিবেদন উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট।

উলে্লখ্য, একই ধরনের পরিস্থিতিতে ১৯৯৭ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে ২০১৫ সালে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়।