স্টার্ফ রিপোর্টার: স্বপ্নকে সত্যিতে রূপান্তিত করে আজ শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটের দিকে পদ্মা সেতুতে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারের ওপর ৪০তম স্প্যান ‘টু-ই’ সফলভাবে বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪০তম স্প্যানটি বসানোয় সেতুর ৬ ছয় কিলোমিটার এখন দৃশ্যমান। আর মাত্র একটি স্প্যান বসানো হলেই দৃশ্যমান হবে পুরো পদ্মা সেতু।

সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের নিশ্চিত করে বলেন, আরো দুই দিন আগে পদ্মা সেতুর ৪০ তম স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও কারিগরি কিছু কাজ থাকার কারনে দুইদিন বেশী সময় লেগেছে। আজ এই স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৬ হাজার মিটার। আমরা আশা করছি বাকী স্প্যানটি চলতি মাসের ১৫ তারিখে বসানো সম্ভব হবে। ৩৯তম স্প্যান বসানোর ৮ দিনের মাথায় বসানো হলো এ স্প্যানটি। আর এখন ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্প্যান বসানো হলেই ৬ হাজার ১৫০ মিটার পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর পুরোটাই দৃশ্যমান হবে। গেল দুই মাসে সেতুতে ৮টি স্প্যান বসিয়ে রেকর্ড তৈরি করেছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। বিজয়ের মাসে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন করার ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে প্রথম স্প্যান বসানো হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বসানো স্প্যানগুলোতে এসব স্ল্যাব বসানো হচ্ছে।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতুর কাঠামো। সেতুর ওপরের অংশে যানবাহন ও নিচ দিয়ে চলবে ট্রেন। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।