ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: ঈশ্বরদী পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধার ডজন খানেক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ এমপির দ্বিতীয় কন্যার জামাতা ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর আমালুম ভুলে গেছেন জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা। প্রায় পাঁচ বছরেও তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটির বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় দলের দুর্নাম ঘোঁচাতে ও সন্ত্রাসের জনপদ থেকে রক্ষা পেতে এবার একজন নতুন মেয়র প্রার্থীর কথা ভাবছেন দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটাররা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই নেতার হুমকি ধামকিতে কারো সাহস হয়নি দলের নিকট মনোনয়ন চাইবার।কিন্তু ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর পৌরবাসীর দূর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে বেড়ে গেলো নাগরিক দুর্ভোগ। পাশাপাশি তার মেয়াদকালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় মেয়রের অযোগ্যতার কারণে দলের দুর্নাম বেড়েই চলেছে।

অধিকাংশ পৌরবাসী অভিযোগ করে বলেন, মেয়র আবুল কালাম আজাদ বিগত বছরগুলো দলীয় কোন্দল, টেন্ডারবাজি, হাটবাজার ইজারা, বালুমহাল, ইপিজেডে প্রচ্ছন্ন চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, শ্বশুর ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি, মেয়রের দ্বিতীয় স্ত্রী (শামসুর রহমান শরীফ কন্যা) মাহজেবীন শিরিন পিয়াসহ দলের বেশ কিছু নেতাকর্মীদের সংগে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ও দখলদারিত্ব নিয়ে কোন্দল সৃষ্টি করায় পুরো দলটি মেয়র মিন্টুর কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। তার এতসব অযোগ্যতার কারণে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও পৌরসভার রাস্তাঘাটসহ সমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যর্থ হয়েছেন।
এ অবস্থায় দলের তৃণমূলসহ ত্যাগী, আদর্শবান নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা এবার নতুন কাউকে মেয়র প্রার্থী হিসাবে চাইছে।

মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু তাঁর মেয়াদকালে বেড়েছে পৌর কর, জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্নতা ও যানজট নিরসনে দেখাতে পারেননি কোনো সফলতা। নাগরিকেরা মনে করেন, আগের চেয়ে সেবার মানের আরও অবনতি হয়েছে।

তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল বাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন, স্টেডিয়াম, শিশুপার্ক, পাবলিক লাইব্রেরি নির্মান, মাদকমুক্ত শহর গড়া, পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখা, সড়কের আশপাশ বা যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলা, দরিদ্র নারীসহ অনগ্রসরদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। শেষ বছরে এসে কিছু রাস্তা ও ড্রেন নির্মান কাজ শুরু করলেও অধিকাংশ কাজ এখনো শেষ হয়নি। তার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি এখন পৌরবাসীর কাছে কৌতুকে পরিণত হয়েছে।

বিগত তিন বছরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন, যা ভাউচারেরর মধ্যেই সিমাবদ্ধ।তিন বছরের বাজেট বক্তৃতা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাল-নালা-নর্দমা থেকে মাটি উত্তোলনে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শহরের প্রবেশমুখ ঈশ্বরদী- পাবনা সড়কের অরনকোলা- হারুখালীর পাশে শহরের ময়লা ও আবর্জনার ফেলে রেখে ভাগাড়ে পরিণত করেছে। যার ফলে অসহনীয় যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভায় বর্তমানে ইউজিআই আইপি প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মানের যে কাজ চলছে সেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সবার মনে।

মেয়র মিন্টুর নিয়ম বর্হিভূত কর্মকাণ্ড ও একঘেয়েমি কার্যকলাপ ঈশ্বরদীতে এখন টক অব দ্যা পৌরসভায় পরিনত হয়েছে। কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের তার ওঠা বসা রয়েছে। তার একক একটি বাহিনীর রয়েছে যার বাহিরে তিনি কারো উপকার করেন না। আর এই বাহিনীর কথাই শেষ কথা। এই বাহিনীর নেতৃত্বেই চলে বালুমহাল দখল, চাঁদা আদায়সহ দুর্নীতির কর্মকাণ্ড।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইসাহাক আলী মালিথার মনোনয়ন চাওয়ায় মেয়র মিন্টুর নির্দেশে যুবায়ের বিশ্বাসের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের সামনেই তার বাড়িতে প্রকাশ্যে হামলা, ভাংচুর ও বোমা হামলা চালানো হয়। মেয়রের কথা না শোনায় ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের নেতা, শিল্প ও বণিক সমিতির বর্তমান নির্বাহী সদস্য কে এম আবুল বাসারকে একাধিকবার মারপিট করা হয়। তার ভয়ে তটস্থ হয়ে আছে এলাকার তৃণমূল নেতাসহ সাধারণ ভোটাররা।