স্টার্ফ রিপোর্টার: বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা আক্তার মিন্নি আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল দাখিল করেছেন। আপিলে খালাস চেয়েছেন তিনি। মিন্নির পক্ষে অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম  মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক রায়ে নিহতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে চারজনকে খালাস দেয়। ৩ অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর পরদিন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। এ অবস্থায় আজ বিকেলে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল দাখিল করা হয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রায়ে রায়ের কপি হাতে পান মিন্নির পিতা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। এর পরদিন রায়ের কপি সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্নার হাতে তুলে দেন তিনি। রায়ের কপি পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না আপিল আবেদন প্রস্তুত করেন।

এই ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে চলে আসায় এখন মামলাটির পেপারবুক তৈরির জন বিজি প্রেসে পাঠানো হবে। ডেথ রেফারেন্সহ মামলার যাবতীয় নথিপত্র একত্রিত করে বাঁধাই করা হবে, যা পেপারবুক নামে পরিচিত। এই পেপারবুক ছাপা হয়ে হাইকোর্টে আসার পর প্রধান বিচারপতি মামলাটির বিচারের জন্য একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন।

গতবছর ২৬ জুন সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত রিফাতের পিতা আব্দুল আলিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আসামি করা হয়। মিন্নিকে গত বছর ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করলেও হাইকোর্ট গতবছর ২৯ আগস্ট এক রায়ে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন। এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ওইবছরের পহেলা সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পুলিশ মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরমধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ আসামির ক্ষেত্রে একটি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের বিরুদ্ধে পৃথক একটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে আপিল বিভাগ জামিন বহাল রাখায় মিন্নি গতবছর ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নয়ন বন্ড গতবছর ২ জুলাই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। একারণে তাকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়নি।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় একটি অভিযোগপত্রের ওপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ জনের ক্ষেত্রে রায় দেওয়া হয়েছে। আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা বরগুনার শিশু আদালতে বিচারাধীন।