ডেস্ক রিপোর্ট: না ফেরার দেশে বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী গৌরী ঘোষ। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছির ৮৩ বছর। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেলেন স্বামী পার্থ ঘোষ, পুত্র অয়ন ঘোষ, আত্মীয়-পরিজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহীকে।

গত ২১ মার্চ হৃদরোগেও আক্রান্ত হয়েছিলেন গৌরী ঘোষ। তারপর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, এরপর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফের অসুস্থ হওয়ায় শেষবার গত ১ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গৌরী ঘোষকে। গত এক সপ্তাহ ধরে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পী স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানান তার পুত্র।

রেডিও উপস্থাপক হিসাবেক আকাশবাণী কলকাতাতে যোগদান করেছিলেন গৌরী ঘোষ। স্বামী পার্থ ঘোষের সাথে জুটি বেঁধে আবৃত্তি জগতেও একটি অতি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন তারা। তাদের বাচনভঙ্গির জাদুতেই আবৃত্তি এক অন্য মাত্রায় পৌঁছেছিল। রেডিও’এর পাশাপাশি অনেক অনুষ্ঠানে একসাথে কবিতা পাঠ করেছে এই জুটি, একাধিক সিডি ক্যাসেটও রয়েছে তাদের। এককথায় এই জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আকাশছোঁয়া। গত কয়েক দশক ধরেই আকাশবাণীর বহু অনুষ্ঠানে এই জুটি আবৃত্তি ছিল জনপ্রিয়। পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও তারা ছিল আইকন। স্বামী-স্ত্রীর যুগলবন্দিতে শ্রুতিনাটক ‘কর্ণকুন্তি সংবাদ’ জনপ্রিয়তার শীর্সে পৌঁছায়।

গৌরী ঘোষের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জি। শোকবার্তায় তিনি লেখেন, ‘তার অনবদ্য আবৃত্তি মননশীল শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তিনি দীর্ঘদিন আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের উপস্থাপিকা ও ঘোষিকা হিসাবে কাজ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ কবিতা অ্যাকাডেমীর সদস্য গৌরী ঘোষকে রাজ্য সরকারের তরফে ২০১৮ সালে ‘কাজী সব্যসাচী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। তার প্রয়াণ সাংস্কৃতিক জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি গৌরী ঘোষের আত্মীয়, পরিজন, অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

গৌরী ঘোষের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধেও গৌরী ঘোষের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে আকাশবাণী কলকাতার ঘোষিক ও সংবাদ পাঠিকা ছিলেন গৌরী ঘোষ। ফলে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার ওপর আর্টিকেল তৈরি করা এবং আকাশবাণী কলকাতা থেকে তা পাঠ করার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধের ওপর পত্রিকায় নিয়মিত ফিচারও লিখতেন। এমনকি শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ ও বিভিন্ন সেমিনারে যোগদান করেছিলেন গৌরী ঘোষ। স্বাধীনতার যুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের তরফে গৌরী ঘোষকে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।