দ্বিতীয় ধাপে গত শনিবার অনুষ্ঠিত ৬০ পৌরসভার নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬১.৯২ শতাংশ হারে। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ভোটাররা সর্বোচ্চ ৮৫.০৪ শতাংশ হারে ভোট দিয়েছেন। আর সবচেয়ে কম ৩৩.৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ঢাকার সাভারে। সব মিলিয়ে মোট ২০ লাখ ৯১ হাজার ৬৮১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৬ জন। এ ছাড়া ৮০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ (৮৩.১৩%), রাজশাহীর গোদাগাড়ী (৮৩.৪৪%), আড়ানী (৮৩.১০%), কুষ্টিয়ার মিরপুর (৮৩.৯৬%) ও হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় (৮১.৯৭%)।

এদিকে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে বিএনপি মাত্র চারটিতে জয়ী হলেও আওয়ামী লীগসহ অন্য জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ২৭টিতে। তবে ভোটের ব্যবধান ছিল ব্যাপক। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৬টিতে, আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ১২টিতে, জাতীয় পার্টি একটিতে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা একটিতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ১১ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজন বিএনপির বিদ্রোহী এবং অন্য চারজন প্রকৃত অর্থেই স্বতন্ত্র।

এই নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ ৪৬টি, বিএনপি চারটি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী পাঁচটি, বিএনপির বিদ্রোহী একটি, জাতীয় পার্টি একটি, জাসদ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি পৌরসভায় জয়ী হয়েছেন। ৬০ পৌরসভার মধ্যে কিশোরগঞ্জের ফল স্থগিত রয়েছে। তবে জয়ী ৪৬ পৌরসভার মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা একক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচিত হন।

দ্বিতীয় ধাপে ২৯ পৌরসভার ভোট ইভিএম পদ্ধতিতে হলেও কয়েকটি পৌরসভায় ভোট দেওয়ার হার ছিল ব্যালটের ভোটের কাছাকাছি।

ইভিএমে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও আড়ানীসহ কয়েকটি পৌরসভায় ৮০ শতাংশের ওপরে ভোট পড়েছে। তবে সার্বিক হিসাবে ব্যালটের তুলনায় ইভিএমে ভোট কম পড়েছে। ইভিএমে ভোট পড়েছে ৫৭.৩৪% আর ব্যালটে পড়েছে ৬৫.০২%।

নির্বাচন কমিশন থেকে গতকাল রবিবার পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ১১ পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নিজ দলের বিদ্রোহীরা। পৌরসভাগুলো হচ্ছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, রাজশাহীর বাগমারা, নাটোরের লালপুর ও গুরুদাসপুর, মেহেরপুরের গাংনী, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও খাগড়াছড়ি।

এদিকে এই নির্বাচনের ফলে ২৭টি পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীরা হলেও ভোটের ব্যবধান ছিল ব্যাপক। সাভার পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৮০৪। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ভোট পেয়েছেন মাত্র পাঁচ হাজার ৩৩০। পাবনার ঈশ্বরদী পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীর ২৮ হাজার ৫৮২ ভোটের বিপরীতে ধানের শীষের ভোট দুই হাজার ১৮৫। সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ৬৮ হাজার ৩৪৮ ভোটের বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী পান ১০ হাজার ৬৮৯ ভোট। রায়গঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর আট হাজার ৯২০ ভোটের বিপরীতে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৫৭৫ ভোট। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ১৭ হাজার ৩২০ ভোট আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ২৬১ ভোট।

বিএনপি প্রার্থীরা কম ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের কাছে যেসব পৌরসভায় হেরেছেন, এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পাবনার ফরিদপুর ও কিশোরগঞ্জ। কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ২০ হাজার ৯২২ ভোট আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ২০ হাজার ৪৩৮ ভোট। গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৮৩ ভোট আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ১৩৬ ভোট। পাবনার ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন চার হাজার ৯৯৬ ভোট আর বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন তিন হাজার ৫১৯ ভোট।

এ ছাড়া যে চার পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে ব্যাপক ভোটের ব্যবধান তৈরি হয় দিনাজপুর পৌরসভায়। এখানে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৩৪ ভোট এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ২৪ হাজার ২২৬ ভোট। অন্য তিনটি পৌরসভার মধ্যে বগুড়ার আদমদীঘিতে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন সাত হাজার ৭৭৮ ভোট এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন সাত হাজার ৪০২ ভোট। হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৩৪১ ভোট আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন চার হাজার ১৮৫ ভোট। একই জেলার নবীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৭৪৯ ভোট আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৮৫ ভোট।

ইভিএমের ভোটের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বলেন, এ যন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। বর্তমান নির্বাচন কমিশন সেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। আর দেশে যে ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে, তাতে পেপার ট্রেইল না থাকায় এতে পাওয়া ভোটের ফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এর আগেও গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ২৪ পৌরসভার নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৬৫.০৬ শতাংশ। ওই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ৮৫.৩১ শতাংশ ভোট পড়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভায়। আর সবচেয়ে কম ৪০.৮৭ শতাংশ ভোটার ভোট দেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভায়।