বিশেষ প্রতিনিধি: তৎকালীন পাকিস্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে অভিনয় দক্ষতাগুণে যে ক’জন শিল্পী সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌঁছেছেন, নতুনদের সামনে আদর্শ হিসেবে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন নায়িকা শাবানা। ১৯৬২ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে পরিচালক এহতেশামের হাত ধরে চট্টগ্রামের রত্না নামের যে কিশোরীর ‘নতুন সুর’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল; সেই আফরোজা সুলতানা রত্নাই নায়িাক শাবা হিসেবে আজকে ধ্রুবতারার মতো জ্বল জ্বল করছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে। শবানার উপমা তিনি নিজেই। ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ বছরে দেড়শ’-এর অধিক ছবিতে দোর্দ- প্রতাপের সঙ্গে অভিনয় করে কোটি কোটি দর্শক হৃদয় জয় করা নায়িকা শাবান এখনো নিজেকে চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছেন একজন প্রযোজিক হিসেবে। ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রত্নার চলচ্চিত্রে অভিষক হওে প্রথম একক নায়িকা শাবানা পরিচয়ে দর্শকদের সামনে হাজার হন ১৯৬০ সালে পরিচালক এহতেশামের উর্দু ছবি ‘চকোরী’র মাধ্যমে। এরপর পরিচালক ও পিতা ফয়েজ চৌধুরীর উৎসাহ অনুপ্রেরণায় সামনের দিকে এগিয়ে চলা শুরু হয় নায়িকা শাবানার। উপযুক্ত সময়ে শাবানা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন পরিচালক প্রযোজক ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে। তারপর শাবানা-সাদিক পরিচয়ে নতুন যাত্রা শুরু হয় শাবানর। যা এখনো অব্যাহত আছে।
দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিনয় জীবনে শাবানা যেসব ছবিতে অভিনয় করেছেন তার প্রায় সবগুলোই ছিল বক্স অফিস হিট। এর মধ্যে যে ছবিগুলোর নাম উল্লেখ না করলেই নয়, সেগুলো হলো : তালাশ (১৯৬৩), আবার বনবাসে রূপবান (১৯৬৬), ডাকা বাবু (১৯৬৬), চকোরি (১৯৬৯), চাঁদ আক্তার চাঁদনী (১৯৬৮), কুলি (১৯৬৮), আনাড়ি (১৯৬৯), দাগ (১৯৬৯), পায়েল (১৯৭০), সমাপ্তি (১৯৭০), মধুমিলন (১৯৭০), একই অঙ্গে এতো রূপ (১৯৭০), ছন্দ হারিয়ে গেল (১৯৭২), এরাও (১৯৭২), ওরা ১১ জন (১৯৭২), চৌধুরী বাড়ি (১৯৭২), অবুঝ মন (১৯৭২), বধূ মাতা কন্যা (১৯৭৩), ঝড়ের পাখি (১৯৭৩), অবাক পৃথিবী (১৯৭৪), আঁধারে আলো (১৯৭৪), মালেকা বানু (১৯৭৪), ভাইবোন (১৯৭৪), সোনার খেলনা (১৯৭৫), দুই রাজকুমার (১৯৭৫), অনেক প্রেম অনেক জ্বালা (১৯৭৫), আমার বাঁধন (১৯৭৬), জয়-পরাজয় (১৯৭৬), ফেরারী (১৯৭৬), জীবন সাথী (১৯৭৬), অমর প্রেম (১৯৭৭), সাহেব বিবি গোলাম (১৯৭৭), দোস্ত দুশমন (১৯৭৭), চকোরী (বাংলা ১৯৭৭), মনের মানুষ (১৯৭৭), ছোট সাহেব (বাংলা-১৯৭৮), মধুমিতা (১৯৭৮), ফকির মজনু শাহ (১৯৭৯), জবাব (১৯৭৯), ঘর সংসার (১৯৭৯), সোনার চেয়ে দামী (১৯৭৯), মাটির মানুষ (১৯৭৯), সোনার হরিণ (১৯৭৯), আমির ফকির (১৯৮০), স্মৃতি তুমি বেদনা (১৯৮০), শেষ উত্তর (১৯৮০), বাঁধন হারা (১৯৮১), আল্লাহ মেহেরবান (১৯৮১), ঘরনী (১৯৮২) সানাই (১৯৮২), আলতাবানু (১৯৮২), দুপয়সার আলতা (১৯৮২), কেউ কারো নয় (১৯৮২), সবুজ সাথী (১৯৮২), লালু ভুলু (১৯৮৩), নাগরানী (১৯৮৩), বানজারাম (১৯৮৩), সময় কথা বলে (১৯৮৩), পরিবর্তন (১৯৮৪), হিম্মতওয়ালী (১৯৮৪), সখিনার যুদ্ধ (১৯৮৪), ভাত দে (১৯৮৪), অন্যায় (১৯৮৫), মা ও ছেলে (১৯৮৫), ন্যায় বিচার (১৯৮৫), আক্রাশ (১৯৮৫), অভাগী (১৯৮৫), শিরি ফরহাদ (১৯৮৫), রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত (১৯৮৭), সারেন্ডার (১৯৮৭), মিয়াবিবি (১৯৮৮), বিশ্বাসঘাতক (১৯৮৮), ঘর ভাঙ্গা সংসার (১৯৮৯), অকৃতজ্ঞ (১৯৯০), মায়ের দোয়া (১৯৯০), গরীবের বউ (১৯৯০), স্ত্রীর স্বপ্ন (১৯৯১), পিতা-মাতা-সন্তান (১৯৯১), কাজের বেটি রহিমা (১৯৯১), ভাবীর সংসার (১৯৯১), টপ রংবাজ (১৯৯১), ও শেষ ছবি বিশ্বাস (১৯৯২)।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ শাবানা দেশে-বিদেশে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৭, ৮০, ৮২, ৮৩, ৮৪ ও ৮৫ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার। বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে। ১৯৮৩ সালে পেয়েছেন এফডিসির রজতজয়ন্তী ট্রফি।