বিশেষ প্রতিনিধি: ‘পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্যের কবি নবীনচন্দ্র সেনের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা ফেনী। জনশ্রুতি রয়েছে কুরু-পা-বের যুদ্ধকালে পৌন্ড্রবর্ধনের বা উত্তরবঙ্গের বিরাট বাজার এক সামন্তের নাম ছিল ফণী রাজা। তার রাজ্য ছিল দক্ষিণ-পূর্ববঙ্গে। ফণী রাজার রাজধানী ছিল ফেনীর অদূরে পোড়ামাটির পাহাড়ে যা ‘শিলার শহর’ নামে পরিচিত ছিল। তাই ধারণা করা হয় যে, ফণীরাজার নামানুসারে ফণী বা ফেনী নামকরণ হয়েছে।


ফেনী জেলার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে চট্টগ্রাম জেলা ও বঙ্গোপসাগরর, পূর্বে ভারতের ত্রিপুর রাজ্য ও চট্টগ্রাম জেলা এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা অবস্থিত। ফেনী, মুহুরী, সোনাদিয়া নদী বয়ে গেছে এই জেরার ওপর দিয়ে। ফেনী জেলা মোট ৬ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো- ফেনী সদর, সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী ও দাগনভুইয়া। এ জেলার আয়তন প্রায় ৯২৮ বর্গকিলোমিটার।


যা যা দেখবেন ও জানবেন : ফেনীতে দেখবেন রাজাঝির দীঘি, পাগলা মিয়ার মাজার শরীফ, বিজয় সিংহ দীঘি। এসব বাড়িয়ে দিয়েছে ফেনী শহরের আকর্ষণ। রাজাকির দীঘির চারদিকে রাস্তা। নারকেল গাছও দেখবেন এখানে। একদা এই দীঘির পাড় ছিল জঙ্গলে পরিপূর্ণ। নেকড়ে বাঘ ছিল তখন এখানে। বাঘের হুংকারে কেউই এই জঙ্গলের পাশে পা রাখতে সাহস পেত না। দীঘির পাড়েই ছিল তিনটি কুঁড়েঘর। তিতুমীরের কেল্লার মতো আস্ত বাঁশের ঘরটি ছিল জেলখানা। পাশের কুঁড়েঘরটিকে বলা হত ‘রাজ কাছারি’।
বিকেলে যাবেন বিজয় সিং দীঘি দেখতে। সার্কিট হাউসের ঠিক উল্টোদিকে এই দীঘিটি।
এক সময় ফেনীতে কিছুই ছিল না। জঙ্গল আর বিস্তৃত জমিতে আচ্ছন্ন ছিল সর্বত্র। এর আশপাশে তিনটি বাজার ছিল  গাছগাছিয়া, রানীরহাট ও দেওয়ানগঞ্জ। এর মাঝখানে তিন মাইল দূরে ফেনীতে গড়ে ওঠে মহকুমা হাকিমের দফতর। চারদিকে বসতি নেই এলাকা কেমন যেন খাঁ খাঁ করত। পরে এক পাগলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ফেনী। মহুকুমা হাকিম নবীনচন্দ্র সেন তাকে ফেনীতে রেখে বাজার গড়ে তুলেছিলেন।
ফেনীর সঙ্গে ‘পাগলা মিয়া’ নামটি এখনো জড়িয়ে আছে। পাগলা মিয়ার আসল নাম ছিল সৈয়দ আমির উদ্দিন (রহ.)। তাঁর নামের আগে বলা হয় ‘কুতুবুল আউলিয়া শাহেন শাহে’। ফেনী বাজারের পাশেই ‘পাগলা ছড়া’। বড়ই স্মৃতিময় এই ‘পাগলা ছড়া’। পাগলা মিয়ার মাজারও এখানে রয়েছে। মাজার ঘুরে দেখুন।


ফেনী শহরে আরো দেখবেন ফেনী কলেজ, একাডেমি, বিমানবন্দর, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। ফেনী একাডেমীতে রয়েছে একাত্তরের বহু স্মরণীয় ঝংকার, দুর্গ। লালপুর বেশি দূরে নয়। এখানে দেখবেন অনেকগুলে দুর্গ। শুভপুর ব্রিজে গিয়ে একটি পুকুর দেখবেন। এর পাশ রয়েছে দুর্গ। এখানে গিয়ে বাঁধ দেখবেন। পাশেই রয়েছে নারকেলগাছের ছড়াছড়ি। ফেনী থেকে একঘণ্টায় ট্রেনে বিলোনিয়ায় গেলে পাহাড় আর পাহাড় দেখবেন। সীমান্ত এলাকাও একই সুযোগ দেখা হয়ে যাবে।
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় গিয়ে শমসের গাজীর নামের কীর্তিগুলো ঘুরে দেখুন। এখানে শমসেরর গাজীর নামে জনপদ, হাটবাজার, রাস্তাঘাট ও দীঘি আছে। শমসেরর গাজীর রাজপ্রাসাদ ও কেল্লার ধ্বংসস্তূপ দেখতে চাইলে সীমান্তের কাছাকাছি আসুন। ফেনীতে আরও রয়েছে কবি নবীনচন্দ্র সেনের স্মৃতিবিজড়িত প্রাচীন বৃক্ষ, দাউদপুর পুল, মার্শাদি শাহী মসজিদ, বাঁশপাড়া জমিদারীবাড়ি ও সাত মন্দির।
যেখানে থাকবেন : ফেনীতে রাত যাপন করার জন্য বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। যেমন- প্রীতম, তৃপ্তি, ইব্রাহীম বোর্ডিং, ফেনী বোডিং।
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে রেলপথে ট্রেনে কিংবা সড়কপথে বাসে ফেনী যেতে পারেন। বাস ছাড়ে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে। স্টার লাইন পরিবহন গেলে যাতায়াত সময় লাগবে সাড়ে ৩ ঘণ্টা।