স্টার্ফ রিপোর্টার: শনিবার সকাল ৯টা থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের সামনে ছয়টি চিনিকলে আখ মাড়াই বন্ধ রাখার প্রতিবাদে গোবিন্দগঞ্জ-মহিমাগঞ্জ সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষীরা। এ সময় এ পথে চলাচলকারী ছোট-বড়ো শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। পরে বেলা ১২টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে চিনিকল চালুর দাবি জানান তারা। এসময় কৃষকরা দাবি মানা না হলে হরতাল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ ও চিনিকলের আওতাধীন সকল জমির দন্ডায়মান আখ আগুনে পুড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এদিকে কাছের চিনিকলে আখ দিতে না পেরে এক চাষী ক্ষোভে এক একরের আখের ক্ষেত আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন।

সমাবেশে বক্তারা জানান, ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে। এর সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বর মহিমাগঞ্জ এলাকায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হবে। এরমধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে হরতাল, রাজপথ-রেলপথ অবরোধ, গণ অনশন ও চিনিকলের আওতাধীন সকল জমির দণ্ডায়মান আখ আগুনে পুড়ে দেওয়া হবে।

এদিকে মিলস গেট সাব জোনের গোপালপুর গ্রামের জিল্লুর রহমান নামের এক আখচাষী বেলা ১টার সময় তার এক একর জমির আখে আগুন লাগিয়ে দেয়। সংবাদ পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার একদল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সোনাতলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিক্ষুব্ধ আখচাষী জিল্লুর রহমান বলেন, রংপুর চিনিকলের চেয়ে ছোট জয়পুরহাট চিনিকলে আখ দিতে গেলে তাদের জমিতেই আখ শুকিয়ে যাবে। ছয় মাসেও তারা আখ মাড়াই করতে পারবেনা। এর ফলে ধানের আবাদও করা সম্ভব হবে না। তাই এ আখ পুড়িয়ে দিলে আগামী বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ করা যাবে।