স্টার্ফ রিপোর্টার: শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননার অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হবে। রোববার ঢাকার সিএমএম কোর্টে এই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

 এ কথা জানায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। মহানবী (সা.) ও বঙ্গবন্ধুর অবমাননা, বলাৎকারে সর্মথনদানের অভিযোগে মামুনুল হকের গ্রেফতারসহ সাত দফা দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।

এতে সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‌‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি ও ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে ফয়জুল করীম ও মামুনুল হক রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন। তাছাড়া এর মাধ্যমে তারা দেশের সংবিধানেরও বিরোধিতা করেছেন। তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা অন্যদের ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছি। তারাও এরকম কিছু করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। এসময় তিনি মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মহানবী (সা.) এর অবমাননার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি ইসলামী ধর্মসভায় মামুনুল হক মহানবী (সা:) কিভাবে ঠোঁট নাড়াতেন এটা তিনি নাকি দেখেছেন এবং হুবহু বলে দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মহানবী (সা.) এর কোন অবয়ব দেখানো সম্পূর্ণ হারাম। ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবী (সা.) এর অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নবীজীকে অবমাননা করেছেন।

‘মামুনুল হক গংরা বলাৎকারের নীরব সমর্থনদাতা’ উল্লেখ করে আল মামুন বলেন, গত এক মাসে দেশে প্রায় ৩৫ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বলৎকার করা হয়েছে যার মধ্যে দুইজন শিশু মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ইতিমধ্যে একজন শিশু আত্মহত্যা করেছেন। খুবই দুঃখের বিষয় এই যে, বলৎকার নিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশের আলেমদের কোন মন্তব্য বা প্রতিবাদ আমাদের চোখে পড়েনি। মামুনুল হক গং বলাৎকারে জড়িত কিনা- যাচাই করতে তাদের মেডিকেল টেস্ট করতে সরকারের কাছে দাবিও জানান তিনি।

সংগঠনটির সাত দফা দাবির মধ্যে আছে, বলাৎকার ও এর সমর্থনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা, প্রতিটি উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ও অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়ানো, মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা প্রভৃতি।

এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আগামী বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে কোমলমতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের ঘটনাগুলোর তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও শুক্রবার এসব ঘটনার প্রতিবাদে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চালাবে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।