নিজস্ব প্রতিনিধি: রাষ্ট্র পক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও মরহুমের আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন নিউজইনফিনিটি ডটনেট নিউজ পোর্টালের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যক্ষ সুখেন্দু শেখর বৈদ্য এবং সম্পাদক তিমির চক্রবর্ত্তীসহ ইনফিনিটি পরিবারেরর অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

আজ রোববার সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এক শোক বার্তায় প্রধান সম্পাদক সুখেন্দু শেখর বৈদ্য বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের আইন অঙ্গনে এক অপুরনীয় ক্ষতি। তিনি অত্যন্ত সৎ, মেধাবী ও অভিজ্ঞ আইন কর্মকর্তা ছিলেন। যা আইন অঙ্গনে সহসা পূরণ হওয়ার নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে তিনি রাজাকার, আলবদর, মানবতাবিরোধীদের মতো কঠিন মামলা পরিচালনা করে জনগনের পক্ষে রায় এনে দিয়েছেন। যা দেশের ইতিহাসে অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবে।

সম্পাদক তিমির চক্রবর্ত্তী বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর রাষ্ট্রের পক্ষে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় আইনি সহায়তা দিয়েছেন মাহাবুবে আলম। একজন অভিজ্ঞ ও ভালো মানুষের পক্ষেই এটা সম্ভব। যা জাতি কোনদিন ভুলবে না।

তিনি আরো বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি, তারেক রহমানের দুর্নীতির মতো কঠিন মামলাগুলো পরিচালনা করে রাষ্ট্রের পক্ষে বিজয় এনে দিয়েছেন যা অত্যন্ত দুরুহ ব্যাপার ছিলো। রাষ্ট্রর আইন অঙ্গনে তার শূণ্যতা চিরদিন বিরাজ করবে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর করোনা উপস্বর্গ (জ্বর ও গলা ব্যথা) নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন মাহাবুবে আলম।ওইদিনই করোনা পরীক্ষা করালে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। গত ১৮ই সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে আইসিইউতে নেয়া হয়।

মাহবুবে আলম ১৯৭৫ সালে হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৯৩-৯৪ সালে বার কাউন্সিলের সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এই আইন কর্মকর্তা। এরপর মৃত্যু অবধি তিনি ওই পদে নিযুক্ত ছিলেন এবং পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলা পরিচালনাও করেন তিনি। উল্লেখ্য মাহবুবে আলম বাংলাদেশের ১৩তম অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন।